মিঠু মুরাদ / : 107
ওমানে মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার সহোদরের মরদেহ আগামী মঙ্গলবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দীর্ঘ এক যুগের প্রবাসজীবনে পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চার ভাই। কিন্তু দেশে ফেরার আগমুহূর্তেই মৃত্যু কেড়ে নিল তাদের জীবন।
নিহতরা হলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ার প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বড় ভাই রাশেদুল ইসলামের হাত ধরেই একে একে ওমানে যান অন্য ভাইরা। শুরুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও পরে তারা শেখের গাড়িচালকের চাকরি পান। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গ্রামের বাড়িতে দোতলা পাকা বাড়িও নির্মাণ করেছিলেন তারা। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছিল।
কিন্তু মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় এক রহস্যজনক গাড়ি দুর্ঘটনায় চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর পরিবার, স্বজন এবং পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। একই পরিবারের চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
নিহতদের ছোট ভাই মো. এনাম জানান, সিরাজ ও শহিদ অবিবাহিত ছিলেন। অন্যদিকে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম ছিলেন বিবাহিত। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আরেক ভাই সম্প্রতি বিয়ে করে আবারও প্রবাসে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন পর আগামী ১৫ মে দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। সেই উপলক্ষে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছিল। দেশে ফেরার আগে কেনাকাটার জন্য বের হয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ফিরলেন মরদেহ হয়ে।
ওমানে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজে অসুস্থতার কথা জানান। একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থানও পাঠান। ওই বার্তায় বলা হয়, তারা গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
পরে মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকায় এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে ওমান পুলিশ।
বর্তমানে নিহতদের মরদেহ স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ হলে সোমবার অথবা মঙ্গলবারের মধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, “চার ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এখন চার ভাই-ই ফিরছেন লাশ হয়ে।”
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।”