পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি হজ মৌসুমে মৃত বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) মক্কার বাংলাদেশ হজ অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া দুই হজযাত্রী হলেন গাজীপুর সদরের নাসরীন জাহান এবং সাভারের নুসরাত শারমীন। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সৌদি আরবে গেছেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৬৫৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৪৪৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৫২ হাজার ১১৫ জন।
এ পর্যন্ত মোট ১৪৬টি ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা ও সেবাদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানিয়েছে হজ অফিস।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিমও সক্রিয় রয়েছে। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে স্থাপিত মেডিকেল সেন্টারগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৪৩০টি সেবা প্রদান করা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ অফিস জানিয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।
এদিকে হজযাত্রীদের ভিসা কার্যক্রমও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৩৭৮টি হজ ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৫টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৩টি ভিসা দেওয়া হয়েছে।
হজ অফিস আরও জানিয়েছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। সর্বশেষ ফিরতি ফ্লাইট আগামী ৩০ জুন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ সরকার হজযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আবাসন ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশ হজ মিশন হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।