ঢাকাসহ সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখনো কমছে না হামের রোগীর চাপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ মে সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৬ হাজার ৫৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪ হাজার ১২১ জন রোগী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকাদান নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অনেক হাসপাতালে হামের জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের পরিচালক আবু আহমেদ আল মামুন জানান, দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত রোগীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পৃথকভাবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ১ মে ভর্তি রোগী ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন, ৭ মে ছিল ৩ হাজার ৬৭৪ জন এবং ১৬ মে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১২১ জনে।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ৬৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৮৫ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ ওয়ার্ডে কিছুটা চাপ কমলেও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রোগীর চাপ এখনো বেশি।
সরকার ইতোমধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এসব এলাকায় সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। তবে সামনে কোরবানির ঈদের ছুটিতে মানুষের চলাচল ও শিশুদের মেলামেশা বাড়লে সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের সর্দি-জ্বর বাড়ছে। ঈদের সময় শিশুদের অবাধ মেলামেশার ফলে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। হাসপাতালটিতে হামের জন্য ১০টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৫৪ জন রোগী।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে আলাদা রেখে চিকিৎসা, নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে সংক্রমণ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম কর্নার, রোগী আইসোলেশন, মাস্ক ব্যবহার এবং দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে দেশে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।