ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ওমানে চলন্ত গাড়িতে এসির বিষাক্ত গ্যাসে ৪ প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৫৩ পিএম

ওমানে প্রবাসী চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে ‘টাইমস অব ওমানে’ প্রকাশিত সর্বশেষ খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এগজস্ট থেকে নির্গত হওয়া অত্যন্ত বিষাক্ত ‘কার্বন মনোক্সাইড’ গ্যাস গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করায় শ্বাসরোধে ওই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর ওমান প্রবাসী ও স্থানীয় নাগরিকদের চলন্ত বা বন্ধ আবদ্ধ গাড়ির ভেতরে না ঘুমানোর ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ।

চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের শীর্ষ নেতারা জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে গাড়িতে রওনা হন। রাত ৮টার পর আচমকা তাঁদের একজন ওমানে থাকা এক আত্মীয়কে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে নিজেদের গুরুতর অসুস্থতার কথা জানান। ভয়েস মেসেজে তাঁরা নিজেদের সঠিক লোকেশন পাঠিয়ে আকুল কণ্ঠে বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো শারীরিক শক্তি বা অবস্থাও তাদের নেই। তাঁদের নাকে-মুখে ফেনা চলে আসছে এবং নিশ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হচ্ছে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মরণাপন্ন ছেলেরা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁদের মায়ের কাছে ফোন করেও শেষবারের মতো দোয়া চান। পরবর্তীতে ওমানের একটি স্থানীয় ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা একটি প্রাইভেট কারের ভেতরে চারজনকে অচেতন ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা ভেঙে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ওমান প্রবাসী ভাগ্যাহত চার ভাই হলেন— রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

এদিকে, নিহত চার প্রবাসী ভাইয়ের লাশ আগামী মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে বিমানযোগে বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। একই ফ্লাইটে চার ভাইয়ের লাশ দেশে আনার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন নিহতদের স্বজন, ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের নেতৃবৃন্দ।

তিন দিন পার হলেও চার ভাইয়ের বৃদ্ধ মা খাদিজা বেগমকে এখনো জানানো হয়নি যে তাঁর চার ছেলেই আর এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই। তিনি এখনো জানেন, ছেলেরা সামান্য অসুস্থ হয়ে ওমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চার ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমন ভঙ্গুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় কলিজার টুকরো চার ছেলের একসঙ্গে মৃত্যুসংবাদ তিনি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারবেন না। এই আশঙ্কায় আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীরা কেউ যেন এই খবর খাদিজা বেগমকে ভুলেও জানাতে না পারেন, সেজন্য ঘরের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রেখেছেন তাঁর বেঁচে থাকা একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ এনাম (৩২)। এনাম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মায়ের সঙ্গেই থাকেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর বন্দরাজপাড়া মসজিদে পবিত্র আসরের নামাজ আদায় শেষে নিহত চার ভাইয়ের স্বজনদের বাড়ি যান বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং চার ভাইয়ের লাশ দ্রুত দেশে আনার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইতিমধ্যে নিজ গ্রামে চার ভাইয়ের লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে পাশাপাশি ৪টি কবর নির্ধারণ করা হয়েছে। নিহতদের খালাতো ভাই এমরান হোসেন বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারটি প্রবাসী ভাইদের পাঠানো টাকায় কেবল সচ্ছলতার মুখ দেখেছিল। চার ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটির সব শেষ হয়ে গেল।’

চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দূতাবাস ও ওমান সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ৮০ শতাংশ শেষ। আশা করছি, মঙ্গলবার বিকেলে ওমান থেকে বাংলাদেশগামী একটি ফ্লাইটে লাশ দেশে পৌঁছাবে।’ তিনি জানান, গাড়ি দুর্ঘটনা না হওয়ায় এই ঘটনার ব্যয়ভার ওমান সরকার বহন করবে না। লাশ পাঠানোর সমস্ত খরচ নিহতদের স্বজন এবং চট্টগ্রাম সমিতি ওমান যৌথভাবে বহন করছে। মৃত চার ভাইয়ের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর