অনলাইন রিপোর্টার
বিশ্বজুড়ে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে অভাবনীয় ও রোল মডেল সমতুল্য অগ্রগতির বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে প্রকাশিত নতুন একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে সগৌরবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের উদ্বোধনী কমনওয়েলথ হেলথ কোঅর্ডিনেশন ফোরামে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট কর্তৃক প্রকাশিত ‘কমপেনডিয়াম অব কেস স্টাডিস অন সারভিক্যাল ক্যান্সার এলিমিনেশন’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই অসামান্য সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়।
প্রকাশিত এই বৈশ্বিক প্রতিবেদনে মূলত কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের সফল ও কার্যকর স্বাস্থ্য উদ্যোগগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়, যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষভাবে গুরুত্ব ও প্রশংসা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে আজীবন সুরক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে সফলভাবে এক ডোজের হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। প্রথম ধাপে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুধু ঢাকা বিভাগেই ১৫ লাখের বেশি মেয়েকে এই জরুরি টিকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে এর দ্বিতীয় ধাপ অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করা হয়, যার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ৬২ লাখের বেশি মেয়েকে এই জীবন রক্ষাকারী টিকার আওতায় আনার একটি বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেনেভার এই আন্তর্জাতিক হাইপ্রোফাইল সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এমএ মহিউদ্দিন মুহিত। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার এবং রোশ ডায়াগনস্টিকসের যৌথ সহযোগিতায় প্রস্তুত করা এই বিশেষ প্রতিবেদনটি ফোরামে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বৈশ্বিক নামী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নারীদের মধ্যে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই জরায়ুমুখ ক্যান্সার মোকাবিলায় কার্যকর টেকসই সমাধান খুঁজতেই মূলত এই বিশেষ ফোরামের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবেদনে কমনওয়েলথের মোট ১২টি দেশের বাস্তব কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, তীব্র আর্থিক সংকট ও স্বাস্থ্য বৈষম্যের মধ্যেও দেশগুলো কীভাবে সফল টিকাদান, স্ক্রিনিং, আধুনিক চিকিৎসা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে কাজ করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ফলো-আপ ও কর্মসূচির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ একটি উন্নত ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম বা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে আন্তর্জাতিকভাবে বড় পরিসরে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া ও জাম্বিয়ার মতো দেশগুলোও নিজ নিজ পর্যায়ে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন মডেল চালু করেছে। অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় গায়ানার প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ ইরফান আলী বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতা প্রয়োজন। কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে নারীর স্বাস্থ্য ও সমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সহকারী মহাপরিচালক ড. জেরেমি ফ্যারার বলেন, ক্যান্সার মোকাবিলায় প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাকে সমন্বিতভাবে দেখতে হবে।