স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের টিকাদান কর্মসূচিতে অতীতে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল, যার কারণে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দীর্ঘ সময় দেশে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং হামের টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “২০২০ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ টিকাদান হয়েছিল, এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগপর্যন্ত মিজেলসের কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। এমনকি মিজেলসের একটি টিকাও আমাদের হাতে ছিল না।”
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় আক্রান্ত জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে ব্যাপকভাবে টিকাদান চালানো হয়েছে। বর্তমানে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশন, সময়মতো চিকিৎসা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও প্রচার কার্যক্রম গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।
চলতি সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পেছনে মায়েদের পুষ্টিহীনতাকেও একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক মা শিশুদের পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তাই মাতৃস্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকরা অংশ নেন। তারা বলেন, হামের প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখা এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন তারা।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সেবা কার্যক্রমে দক্ষ জনবলকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সফলতা সম্ভব নয়।
সেমিনারে আরও আলোচনা হয় টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা, শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা, এবং রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে হামের মতো সংক্রামক রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।