স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন আইন ও নামে নতুন একটি এলিট ফোর্স গঠন করার কথা ভাবছে সরকার। এই লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে এবং সেই আইনের আলোকেই নতুন এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে। আজ সোমবার র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘র্যাবের নিজস্ব কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই। একটি ব্যাটালিয়ান আইনের ওপর ভিত্তি করে র্যাব এতদিন পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী পরিচালিত হওয়া সঠিক ছিল না। এখন আমরা একটি নতুন আইন তৈরি করব। আলাদা এলিট ফোর্সের জন্য এই আইনে কার কী অথরিটি থাকবে, কার কী রেসপন্সিবিলিটিজ বা দায়িত্ব থাকবে, তা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট করা থাকবে। আর সেটার ভিত্তিতেই এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে আইনটি করব, তার অধীনেই এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে। আমরা বর্তমান র্যাবের নাম বহাল রাখব কি না, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো ফোর্স গঠন করব, তা এখনও চিন্তা-ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, নতুন আইনে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।’
র্যাবের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের এমন কোনো সংস্থা বা বাহিনী ছিল না যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী—সবাই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলত কিছু কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য র্যাব আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বিষয়ে যার যার সংস্থার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। যখন আমেরিকা এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তখন র্যাবের কিছু কর্মকর্তা এমন কিছু কার্যক্রম করেছিল যা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সেটি সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য এই বাহিনীগুলোকে ব্যবহার করেছিল। আর সেই কারণেই আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এখানে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব এককভাবে দায়ী না। আমরা বিষয়টি সেভাবেই মূল্যায়ন করি। কিন্তু আমরা যদি একটি নতুন এলিট ফোর্স গঠন করি, তাহলে হয়তো তারা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। নতুন নামে আসলে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশা করা যায়। আর আমরা সেই লক্ষ্যেই নতুন আইন তৈরি করছি।’
ভবিষ্যতেও র্যাব আগের মতো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘গত তিন মাসে কি অন্য কোনো বাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে? পুলিশ কি ব্যবহৃত হয়েছে? সুতরাং মর্নিং শোজ দ্য ডে (সকালই বলে দেয় দিনটি কেমন যাবে)।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে একটি দক্ষ এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে বিবেচনায় র্যাবের বিদ্যমান আইন পরিবর্তন ও সংশোধনপূর্বক এটিকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে করে এলিট ফোর্সটির সদস্যদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একইসঙ্গে র্যাবের বর্তমান নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের মেয়াদে র্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, র্যাব যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, প্রথমদিকে র্যাবকে কেবল সে উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় র্যাবকে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়কেরা উপস্থিত ছিলেন।