সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি নয়জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৩৩৭ জন। মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান গত ১৮ মে সকাল ৮টা থেকে ১৯ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭৭ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৩৯৮ শিশু।
একই সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৯২৯ জন। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ৫৬ হাজার ৮৮৬ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছে ৩২ হাজার ৯২৯ জন। ফলে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে দ্রুত হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদানে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দাগ, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতায় রূপ নিতে পারে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১৯ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।