বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত, দক্ষ এবং একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনীতে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি এই বাহিনী দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় সংকটে এই বাহিনীর দীর্ঘদিনের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাতীয় সমাবেশে উপস্থিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সবসময়ই সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। আপনাদের এই নিরলস সেবা, দেশপ্রেম এবং নিষ্ঠা দেশের সাধারণ মানুষের মনে এক অনন্য আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস এবং আশা করি যে, আগামী দিনেও আনসার ও ভিডিপি নিজেদের গৌরব অক্ষুণ্ন রেখে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক বাহিনীতে পরিণত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই বাহিনীর অসামান্য অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থেই নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আনসার-ভিডিপির সদস্যদের সাফল্য ও গৌরবগাঁথা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং তা দেশের জন্য বড় সম্মান বয়ে এনেছে।’
বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আশা করি আনসার-ভিডিপির প্রত্যেক সদস্য দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন আধুনিক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আগামী দিনে আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।’
তিনি দেশের তৃণমূল বা প্রান্তিক পর্যায়ে এই বাহিনীর প্রশাসনিক কাঠামো ও কর্মপরিধি বিস্তৃত করার বিষয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল তথা উপজেলা পর্যায়ে এই বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী এবং জবাবদিহিমূলক করতে আমাদের সরকার ইতিমধ্যে ‘উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা ২০২৬’ প্রণয়নের এক বিশেষ আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’ এই প্রবিধানমালা বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গাজীপুরের সফিপুরে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য সমাবেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন /
আরআর