অনলাইন রিপোর্টার
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। আজ বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৩ জনের শরীরে সরাসরি হামের উপস্থিতি এবং বাকি ৩ জনের হামের তীব্র উপসর্গ ছিল। এই নতুন প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২০ মে পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮১ জনে। এর মধ্যে অন্তত ৮০ জন শিশুর মৃত্যু সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ বুধবার সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ মহামারি ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এই ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬টি শিশুর মধ্যে রাজধানী ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে দুজন করে এবং সিলেট ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু রয়েছে। এর বাইরে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭০ জন। এই একই সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৪৫ জন মুমূর্ষু শিশু। বিপরীতে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ৩০ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩৮ জন শিশুর শরীরে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে হামের জীবাণু বা সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৭৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকার পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণ রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, যেখানে ২৩৪ জন সন্দেহজনক রোগী মিলেছে এবং বরিশাল বিভাগে এই সংখ্যা ১৩৩ জন। কেবল সন্দেহজনক রোগীই নয়, বরং নিশ্চিতভাবে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে হাম শনাক্তের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগ দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে নতুন করে ১০৬ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী এবং তাদের অনেকেই অতীতে হামের নিয়মিত রুটিন টিকা থেকে বাদ পড়েছিল। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে বিশেষ ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়াতে কাজ করছে।
ঢাকা টুডে / আরজে