দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। মহামারি রূপ নেওয়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিন শিশু এবং হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও চার শিশু।
আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে দেশের এই সবশেষ পরিস্থিতি ও শিশুমৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গতকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই শিশুমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে। ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের শ্বাসকষ্ট উপশমসহ সার্বিক চিকিৎসায় নেবুলাইজ করাসহ নানা জরুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবশেষ এই ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৪২৩ শিশুর শরীরে হামের নতুন উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, হঠাৎ উচ্চ তাপমাত্রা, শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা ওঠা, সর্দি-কাশি ও চোখের সমস্যার মতো লক্ষণ নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিশু হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছে। সরকারি হিসাব মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশে মোট হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯ জনে। দিন দিন এই সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ২০৮ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ২৭৫ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম রোগটি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশই পুষ্টিহীনতা বা টিকাদানের ঘাটতির কারণে দ্রুত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৪৬ হাজার ৪০৭ শিশু। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছে ৪২ হাজার ৩৩৬ শিশু। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, সব হাসপাতালেই নতুন রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
মৃত্যুর সামগ্রিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪০৫ জন শিশু। আর ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৩ জন। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ জনে। বিপুল সংখ্যক শিশুর এই অকাল মৃত্যু দেশের সামগ্রিক শিশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।