রাজধানীর পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (২২ মে) দুপুর থেকে কয়েক শ মানুষ সড়কে নেমে আসেন। এতে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা পৌনে তিনটার দিকে ‘এলাকাবাসীর ব্যানারে’ মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা শিশু হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদও জানান বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে শিশুটির বাসার কাছে মানববন্ধনের আয়োজন করে বি–১১ সমাজকল্যাণ যুব সংগঠন এবং শিশুটি যে স্কুলে পড়াশোনা করত সেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
জুমার নামাজের পর একই দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল মিরপুর এলাকা থেকে বের হয়ে শিশুটির বাসার সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনার বিচার দ্রুত কার্যকর না হওয়ায় অপরাধীরা বারবার এমন অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন। বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবি তুলেছেন। সচেতন মহলের মতে, এমন নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়তে পারে।