দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এবার ৫০০-এর ঘর ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৫১২ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টাতেই (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) প্রাণ হারিয়েছে আরও ১৩টি শিশু। নতুন করে মারা যাওয়া এই শিশুদের মধ্যে একজনের শরীরে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে ভয়াবহ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৩টি শিশুর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া একটি শিশু বরিশালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় চারজন, সিলেটে চারজন, চট্টগ্রামে দুজন, বরিশালে একজন এবং ময়মনসিংহে একজন শিশু মারা গেছে। সরকারি এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান যুক্ত হওয়ার পর, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশে ৪২৬টি শিশুর মৃত্যুর ভয়ংকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেল। এর পাশাপাশি একই সময়সীমার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও ৮৬টি শিশু।
প্রতিবেদনে সারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯৬৭টি শিশুর শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে সর্বমোট ৬২ হাজার ৫০৭টি শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট তৈরি হচ্ছে। তীব্র উপসর্গ ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯টি শিশু। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা সেবা শেষে এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ১১টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরে গেছে।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। যেমন, হামের তীব্র উপসর্গ থাকায় চার বছরের শিশু মুসকানকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর ওই হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে মায়ের কোলে চড়ে শিশুটিকে দীর্ঘক্ষণ ভর্তির অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুরক্ষায় হামের টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার এবং দ্রুত ঘরে ঘরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে এই মৃত্যুমিছিল ঠেকানো কঠিন হবে।
আকাশজমিন / আরআর