দেশে ঊর্ধ্বমুখী হাম পরিস্থিতি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই ক্রান্তিকালে হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কোনো ডাক্তার ও নার্সের ছুটি হবে না, তাদের হাসপাতালে উপস্থিত থেকে সেবা দিতে হবে।
আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
যেসব সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসাধীন রয়েছে, সেসব হাসপাতালে ঈদের ছুটির দিনগুলোতে চিকিৎসকরা নিয়োজিত থাকবেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ইনশাল্লাহ চিকিৎসকেরা হাসপাতালে থাকবেন। আমরা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে একটি জরুরি সার্কুলার জারি করেছি। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনারা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারেন যে, আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি। হামের রোগী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সাথে যুক্ত কোনো ডাক্তার বা নার্সের ছুটি হবে না। তাদের কর্মস্থলে থাকতে হবে।”
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে বলেন, “একটা কথা আপনাদেরকে স্পষ্ট বলি। ভ্যাকসিন বা টিকা নিলেই যে শতভাগ নিশ্চিতভাবে একটা বাচ্চার আর কখনোই হাম হবে না, এটা কিন্তু হলফ করে বলা যায় না। যেমন স্মল পক্স (গুটিবসন্ত) কিংবা কলেরা পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে বলা হলেও, এখন কিন্তু মাঝেমধ্যে কলেরা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। মানুষের শরীরে যদি রেসিস্ট্যান্স বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাত্রাটা কেউ ক্রস করে যান, কিংবা পচা-তিতা খাবার খেয়ে বসেন, তাহলে তো কলেরা হবেই। ঠিক একই জিনিস কিন্তু এই হামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।”
তিনি আরও বলেন, “যদি বাতাসে বা পরিবেশে বেশি মাত্রায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে, তবে ক্ষেত্রবিশেষে টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হতে পারে। তবে এটা কতটুকু গ্যারান্টি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, তা আমি সুনির্দিষ্টভাবে জানি না; কারণ আই অ্যাম নট এ সায়েন্টিস্ট (আমি কোনো বিজ্ঞানী নই)।”
আসন্ন ঈদে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে মায়েদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “ঈদের সময় মায়েরা যেন আক্রান্ত শিশুদের কোনো অবস্থাতেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে না যান। একই সাথে শিশুটিকে যেন অতিরিক্ত ভিড় রয়েছে এমন গণপরিসর বা জায়গায়ও নিয়ে যাওয়া না হয়।”
রোগটির ভয়াবহতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কারণ হাম অত্যন্ত উচ্চমাত্রার একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি রোগীর সংস্পর্শে গেলেই শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এবং দৈনিক মেলামেশার মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। কাজেই এটা প্রতিরোধে সবার সচেতন থাকার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা প্রেডিক্ট (পূর্বাভাস) করছেন যে, অবাধ মেলামেশা বা ফ্রি মিক্সিংয়ের ফলে এই ঈদে বাস যাত্রা, ট্রেন যাত্রা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার মাধ্যমে যদি হাম রোগীর সংস্পর্শে সুস্থ বাচ্চারা আসে, তাহলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা (পসিবিলিটি) থাকবে।”
আকাশজমিন / আরআর