পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ৫টি দুম্বা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা হাটে এই দুম্বাগুলোকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। রংপুরের বিসমিল্লাহ এগ্রো ডেইরি ফার্মের মালিক মো. নাসিম আলী এই দুম্বাগুলো বিক্রির জন্য গাবতলী হাটে নিয়ে এসেছেন।
খামারি মো. নাসিম আলী জানান, হাটে তোলা দুম্বাগুলোর মধ্যে আকারে বড় দুইটির দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতি পিস পাঁচ লাখ টাকা করে এবং বাকি তুলনামূলক মাঝারি তিনটির প্রতিটির দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে চার লাখ টাকা। তবে হাটে আসা ক্রেতাদের অনেকেই দুম্বাগুলোর দাম তিন লাখ টাকার নিচে বা তার আশেপাশে প্রস্তাব করছেন।
বিক্রেতা নাসিম আলী আরও বলেন, “আমরা গতকালই দুম্বাগুলো নিয়ে হাটে এসেছি। হাটে প্রচুর ক্রেতা ও দর্শনার্থী আসছেন, অনেকেই দরদামও করছেন। তবে এখনো ঈদের কয়েকদিন বাকি থাকায় আশা করছি সময় বাড়ার সাথে সাথে কাঙ্ক্ষিত দামে এগুলো বিক্রি করতে পারব।”
আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) হাটে আসা আনোয়ার হোসেন নামে এক সৌখিন ক্রেতা একটি দুম্বার দরদাম করেন। তিনি দুম্বাটির দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি হন। তবে বিক্রেতা নাসিম আলী লোকসানের কথা জানিয়ে দাম আরও বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন।
ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “গাবতলী হাটে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে দুম্বা ওঠেনি। এই খামারি মাত্র পাঁচটি দুম্বা নিয়ে এসেছেন, যে কারণে বাজারে একচেটিয়া দাম চাচ্ছেন এবং দাম ছাড়ছেন না। ঈদের আরও কিছুদিন সময় বাকি রয়েছে, হয়তো সামনে আরও দুম্বা হাটে আসবে। তখন দামাদামি করে বাজেটের মধ্যে নেওয়া যাবে।”
এদিকে গাবতলী পশুর হাটে গরু ও মহিষের পাশাপাশি ছাগল ও খাসির বেচাবিক্রিও পুরোদমে জমে উঠেছে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার খামারি ও ব্যাপারিরা গাবতলী হাটে পশু নিয়ে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা পুরো হাট ঘুরে ঘুরে নিজেদের সাধ্যের মধ্যে পশুর দরদাম করছেন। হাটে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ লাখ টাকা মূল্যের বড় সাইজের খাসিও উঠেছে। খামারিরা জানিয়েছেন, এখনো ঈদের কয়েক দিন বাকি থাকায় মূল বেচাবিক্রি ও ভিড় আরও বাড়বে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্রেতারা কিছুটা কম দাম বলছেন, যার কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো বিক্রি শুরু হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক প্রান্তিক খামারি।