পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঘরমুখো মানুষের আনুষ্ঠানিক ট্রেনযাত্রা আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) থেকে শুরু হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে রেলওয়ের বিশেষ ঈদযাত্রা আজ ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর সকাল থেকে একে একে আরও বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন দেশের বিভিন্ন জেলার যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে।
রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশ্যে মোট ১২টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। তবে ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই ট্রেন ছাড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে; প্রায় প্রত্যেকটি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যেতে সর্বনিম্ন ১৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট বা তার চেয়েও বেশি সময় দেরি করছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ রংপুরের উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশন ছেড়ে গেছে ‘রংপুর এক্সপ্রেস’। এই ট্রেনটি সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পর অর্থাৎ ৯টা ৩০ মিনিটে এটি ছেড়ে গেছে। অন্যদিকে, জামালপুরের উদ্দেশ্যে ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সকাল ১০টায় কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এটি প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যায়নি।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম সরেজমিনে ঘুরে যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন। এ সময় তিনি প্ল্যাটফর্মে ও ট্রেনের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের কাছে সরাসরি জানতে চান যে, ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট কাটতে তাদের কোনো ভোগান্তি বা সমস্যা হয়েছে কিনা। এ ছাড়া যাত্রীরা কালোবাজারি ছাড়া নিজ নিজ টিকিটে নির্ধারিত আসনে বসে স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে পারছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখেন তিনি।
ডিজির সাথে আলাপকালে সাধারণ যাত্রীরা জানান, ঈদযাত্রার প্রথম দিন হওয়ায় স্টেশনে এখন পর্যন্ত যাত্রী সাধারণের খুব বেশি উপচে পড়া চাপ নেই। যার কারণে তাদের টিকিটে নির্ধারিত সিট খুঁজে পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে, কয়েকজন যাত্রী ট্রেনের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নের জোরালো দাবি জানান। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে, ট্রেনের ভেতরের ফ্যান নষ্ট, বসার সিট ভাঙা এবং টয়লেটগুলো নোংরা ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেন যাত্রীদের এই সমস্ত অভিযোগ ও সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা ধীরে ধীরে সমাধানের আশ্বাস দেন।