ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার জেরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটি শেষে প্রথম দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষ কয়েক ঘণ্টা চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন।
রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত থেকে সোমবার (২৫ মে) সকাল পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের দুটি পৃথক স্থানে দুর্ঘটনা ঘটলে এই যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে শ্রীনগরের দোগাছি এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এক ট্রাকচালক নিহত হন।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি সরানোর কাজ চলাকালীন সোমবার ভোরে এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর এলাকায় একটি বাস ও প্রাইভেটকারের মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষ ঘটে। দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন।
পরপর দুটি দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা ছাড়িয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘরমুখো যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন।
মাওয়া হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল হায়দার জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ঈদযাত্রার চাপ সামলাতে হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়।
পদ্মা সেতুতে যান চলাচল দ্রুত ও সহজ করতে মাওয়া প্রান্তে আটটি বুথে নিরবচ্ছিন্নভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের বাড়তি চাপ সামলাতে আলাদা দুটি বিশেষ লেন চালু রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহন ও দুর্ঘটনা মিলিয়ে এ ধরনের যানজটের ঝুঁকি বাড়ে। তাই চালকদের আরও সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।