দেশে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না হাম ও হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন হাসপাতালে আসা আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এই নতুন প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে গত ৭১ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৫ জনে। সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৫৮ জন শিশু। অন্যদিকে, ল্যাব টেস্ট ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে পুরোপুরি হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৭ জন শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানা গেছে। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই হিসাব গতকাল ২৪ মে সকাল আটটা থেকে আজ ২৫ মে সকাল আটটা পর্যন্ত সময়কালের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের ভৌগোলিক এলাকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে তিন শিশু, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে দুজন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংক্রমণ ও মৃত্যুর চিত্র থেকে স্পষ্ট যে, রোগটি দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই ছড়িয়ে পড়েছে।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৭ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭ শিশু। চিকিৎসাধীন নতুন রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২৭ জন শিশুই ঢাকা বিভাগের। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ২০৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১২৮ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৫ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ হাজার ৪০৫ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে।
চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই রোগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৭১ দিনে দেশে মোট হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৪ হাজার ৯৪০ জনে। এর মধ্যে তীব্র উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৫ জনকে। সরকারি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর মোট হাম পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭১৯ জনের। এ ছাড়া এই ৭১ দিনে চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৪৭ Limit হাজার ৬১৯ জন শিশু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের টিকাদানের হার বাড়ানো এবং উপসর্গ দেখামাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করেছে এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।