রফিকুল ইসলাম রাজু
ঈদের আনন্দ চিরকালই বাঙালির জীবনে এক পবিত্রময় উৎসবের বার্তা নিয়ে আসে। যান্ত্রিক নগরের কর্মব্যস্ততা, ক্লান্তি আর ধূসর মলিনতাকে পেছনে ফেলে কোটি মানুষ ছুটে যায় মায়ের কোলে, শেকড়ের টানে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজধানী ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন কিংবা নদী বন্দরগুলোতে এখন কেবলই মানুষের জনস্রোত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঈদের আগের এই ৩ থেকে ৪ দিনে ঢাকা ছাড়বে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত বরাবরই এক উৎসবের আমেজ তৈরি করে। কিন্তু এবার এই আনন্দের যাত্রার ওপর এক কালচে মেঘের ছায়া নেমে এসেছে। দেশজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব এই খুশির ঈদকে নিমেষেই বিষাদে রূপান্তর করতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার মুখেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের তেমন কোনো জোরালো বা কার্যকর মনোযোগ চোখে পড়ছে না, যা বিশেষজ্ঞদের চরমভাবে হতাশ এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশে প্রথম হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। ঘাতক এই ভাইরাসের থাবায় ইতিমধ্যেই মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, বরং পাঁচ শতাধিক মায়ের কোল খালি হওয়ার এক বুকফাটা আর্তনাদ। একই সঙ্গে সরকারি হিসাবেই আক্রান্ত ও শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দিন দিন পরিস্থিতি যেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কেবলই ডালপালা মেলছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার টিকাদানের একটি বিশেষ কর্মসূচি শুরু করলেও, বাস্তব চিত্রে সংক্রমণ ও মৃত্যুর গ্রাফে কোনো নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাসপাতালের বারান্দায় অবুঝ শিশুদের কান্না আর মা-বাবার আহাজারি ভারী করে তুলছে বাতাস।
ঠিক এমন একটি সংকটময় ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে ঈদের মহাসড়ক যাত্রা। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, মানুষের ব্যাপক চলাচল এবং শিশুদের একে অপরের সংস্পর্শে আসার অভূতপূর্ব সুযোগ এই সংক্রমণকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন দেশের প্রখ্যাত ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, খ্যাতনামা জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজির আহমদ এবং বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা। তাদের মতে, ঈদের আনন্দের মধ্যেও এবার প্রতিটি পরিবারকে এক বাড়তি, অভূতপূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, মা-বাবার সামান্যতম অসতর্কতা বা উদাসীনতা তাদের প্রিয় সন্তানের জীবনে ডেকে আনতে পারে চরম বিপর্যয়, তৈরি করতে পারে সংক্রমণের এক নতুন এবং আরও বড় ঢেউ।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই ভীতি আরও বাস্তব রূপ নেয়। গত ১৮ থেকে ২৪ মে—মাত্র এই এক সপ্তাহেই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৬৪ জন নিষ্পাপ শিশু। এর আগের সাত দিনে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪০ জন। অর্থাৎ, প্রতিটা দিন যাওয়ার সাথে সাথে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এই ভয়াবহ চিত্রকে সামনে রেখেই অধ্যাপক নজরুল ইসলাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সারা দেশে যেভাবে হামের বিস্তার ঘটেছে, তাতে এই জনস্রোতের ঈদের ছুটির পর সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ও লজিস্টিক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই প্রবীণ ভাইরোলজিস্ট বলেন, হাম কোনো সাধারণ অসুখ নয়; এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি মূলত ছড়ায় মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে। যে শিশুটি এখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি, সে যদি এই উৎসবের মৌসুমে এমন কোনো এলাকায় যায় বা ভ্রমণের শিকার হয় যেখানে আগে থেকেই হাম ছড়িয়ে রয়েছে, তবে আক্রান্ত শিশুর সামান্য সংস্পর্শে এলেই সে-ও সংক্রমিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে ঈদযাত্রার সময় আমাদের দেশের গণপরিবহনগুলোর যে করুণ অবস্থা থাকে, যেখানে গাদাগাদি করে মানুষকে ভ্রমণ করতে হয়, তা এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার জন্য সবচেয়ে আদর্শ পরিবেশ। বাস, লঞ্চ বা ট্রেনের অবরুদ্ধ বাতাসে যদি একটিমাত্র আক্রান্ত শিশুও থাকে, তবে সেই পুরো যানের অন্য সমস্ত শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি শতভাগ বেড়ে যায়।
একই সুর শোনা গেছে জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজির আহমদের কণ্ঠেও। তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই বিপদের দুটি প্রধান দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ঈদের এই ছুটিতে মূলত দুইভাবে এই ঘাতক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রথমত, ঢাকা থেকে অনেক পরিবার এমন সব গ্রামীণ এলাকায় বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছে, যেগুলো ইতিমধ্যেই হামের ‘হটস্পট’ বা অতি সংক্রমিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। সেখানে গিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ একটি শিশুও নিমেষেই আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, অনেক অসচেতন মা-বাবা হয়তো তাদের আক্রান্ত শিশুকে, যার শরীরে ইতিমধ্যেই হামের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে, তাকে নিয়েই যাতায়াত করছেন। এই আক্রান্ত শিশুটি ভ্রমণের পুরো পথে এবং তার গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সেখানকার অন্য সুস্থ শিশুদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে দেওয়ার এক জীবন্ত উৎসে পরিণত হচ্ছে।
বে-নজির আহমদ আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রূঢ় বাস্তবতার দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, আমাদের ঢাকার বাইরের চিকিৎসাব্যবস্থা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল, যা ইতিমধ্যে এই সংকটের সময়ে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। ফলে, কোনো একটি শিশু যদি এই ঈদের ছুটিতে দূরবর্তী কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়, তবে সেখানে তাকে জরুরি ও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংকটময় ও প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে। তাই এই জনস্বাস্থ্যবিদের স্পষ্ট পরামর্শ—খুব বেশি জরুরি বা জীবন-মরণ সমস্যা না হলে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে এবার এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এই উৎসবের আবহে আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে সচেতন থাকা যায়, সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে সমাজ ও পরিবারের প্রতিটি স্তরে আতঙ্ক ছড়ানোর চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঈদযাত্রার প্রতিটি ধাপে কিছু সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী সতর্কতা অবলম্বন করলে সংক্রমণের এই ভয়াবহ ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের অভিভাবকদের দায়িত্ব ও সচেতনতা এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভ্রমণের সময় মা-বাবাকে অবশ্যই সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যাতে তারা নিজেরা বাহক না হয়ে ওঠেন। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় মাস্ক পরিয়ে রাখাটা যে বেশ কঠিন এবং বাস্তবসম্মত নয়, সেই মানবিক দিকটিও অভিভাবকদের মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো—যদি কোনো শিশুর শরীরে সামান্যতম জ্বর, চোখ লাল হওয়া, অনবরত কাশি কিংবা চামড়ায় লালচে ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা যায়, তবে তাকে কোনো অবস্থাতেই এই ভিড়ের মধ্যে ভ্রমণে বের করা উচিত হবে না। এর পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলোতেও অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ পরিবেশ, অপরিচ্ছন্ন স্থান এবং যেকোনো অসুস্থ বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে।
যেহেতু হামের ভাইরাসটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই শিশুদের নিয়ে যেকোনো ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলার ওপর বারবার তাগিদ দিয়েছেন অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা। তিনি আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, "যদি না গেলে চলে বা পরে যাওয়া সম্ভব হয়, তবে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের এবার এই ঈদে ঢাকার বাইরে না নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তবে আমরা জানি, এই উৎসবের সঙ্গে মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং স্বজনদের সাথে মিলিত হওয়ার এক তীব্র আকুতি জড়িত থাকে। তাই যদি যেতেই হয়, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতি মুহূর্তে সর্বোচ্চ সাবধানে থাকা।"
কিন্তু সাধারণ মানুষের এই ব্যক্তিগত চেষ্টার পাশাপাশি রাষ্ট্রের যে একটি বিশাল ভূমিকা থাকার কথা ছিল, সেখানে এক বড় ধরনের শূন্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দীন উপজেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া বেসরকারি চাকরিজীবী সানাউল্লাহর অভিজ্ঞতা একেবারেই সুখকর নয়। তাঁর এক সন্তানের বয়স সাত বছর এবং অন্যজনের চার বছরের কিছু বেশি। চারপাশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা শুনে তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সতর্ক। কিন্তু সানাউল্লাহ ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে জানান, এত বড় একটা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেশজুড়ে চলছে, অথচ সদরঘাট বা লঞ্চের কোথাও হাম সংক্রমণ থেকে কীভাবে মানুষ নিরাপদে চলবে, তার কোনো সরকারি নির্দেশনা, পোস্টার বা মাইকিং তার চোখে পড়েনি। তিনি বলেন, "এ নিয়ে কোনো প্রচার আমার চোখে পড়েনি। আমি নিজে সচেতন বলে হয়তো সাবধান থেকেছি, কিন্তু এই ভিড়ের মধ্যে থাকা অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেই না এবং তারা কোনো সাবধানতা অবলম্বন করছে না।"
সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে বিশেষজ্ঞদের কথাতেও। তারা স্পষ্ট করেই বলছেন, এই জাতীয় মহামারি সদৃশ পরিস্থিতিতে ঈদযাত্রার মতো বিশাল মানবস্রোতকে নিয়মতান্ত্রিক করার ক্ষেত্রে সরকারের যে ধরনের নিবিড় মনোযোগ থাকা দরকার ছিল, তা একেবারেই অনুপস্থিত। অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, "হাম নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সরকারি ও গণমাধ্যমভিত্তিক জনসচেতনতামূলক প্রচার দরকার ছিল, যা মানুষের মনে গেঁথে যেত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমরা মাঠপর্যায়ে বা গণমাধ্যমে তেমন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।" একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করে অধ্যাপক নজরুল ইসলামও বলেন, "পুরো বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে সরকার এই মহামারি পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত অমনোযোগী। হয়তো বা রোগটাকে অত্যন্ত সাধারণ বা মামুলি একটি বিষয় হিসেবে দেখানোর একটা প্রচ্ছন্ন চেষ্টা কর্তৃপক্ষের মধ্যে কাজ করছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।"
অবশ্য পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সরকার ইতিমধ্যেই হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিল করেছে এবং তাদের কর্মস্থল না ছাড়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই প্রশাসনিক আদেশকে মূল সমস্যার প্রকৃত সমাধান হিসেবে মানতে নারাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বে-নজির আহমদ। তিনি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে বলেন, "এভাবে হঠাৎ করে চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়াটাই প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে সহজ পন্থা। একটা পরিপত্র বা নোটিশ জারি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মূল কাজ তো রোগটা যাতে নতুন করে না ছড়ায়, সেটি প্রতিরোধ করা। সেই মূল জায়গাটিতে তেমন কোনো দৃশ্যমান বা দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।" বে-নজির আহমদের মতে, সরকারের এখন টেবিল ওয়ার্ক ছেড়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নতুন আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত নজরদারি বা সার্ভেইল্যান্স বাড়ানো এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তে শতভাগ শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর।
ঈদযাত্রার এই মহাব্যস্ততার মাঝে এবং বিশেষজ্ঞদের এতসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে, তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে বা কোনো কথা বলতে সম্পূর্ণ রাজি হননি। কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা সাধারণ মানুষের মনের সংশয় ও ভয়কে আরও বাড়িয়ে তুলছে। আনন্দের ঈদ যেন কোনো পরিবারের জন্যই চিরদিনের কান্না হয়ে না ফেরে, সেই সচেতনতা এখন রাষ্ট্র ও নাগরিক—উভয়কেই সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলতে হবে।
আকাশজমিন/ আরআর