বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের অবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে রাজধানীর হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়কে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এতে নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ সময় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর উন্নয়ন প্রকল্প এবং কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বলতা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে অকার্যকর ভূমিকার কারণে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।