রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত বেসরকারি আদ-দ্বীন হাসপাতালে এক অবৈধ ও নোংরা রুটির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) বিকালের দিকে মগবাজারের ওই হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের মতো একটি অতি সংবেদনশীল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এমন বাণিজ্যিক বেকারি গড়ে তোলায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের ভেতরে একটি বেকারি বা রুটির কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সেখানে বিশাল আকৃতির দুটি ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে সম্পূর্ণ কারখানাটি চালানো হতো। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই যান্ত্রিক ওভেন ও কারখানা পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত মেকানিক্যাল বা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি হাসপাতালের ভেতরে এই ধরণের বাণিজ্যিক কারখানা গড়ে তোলা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। তা ছাড়া পরিদর্শনের সময় পুরো কারখানা প্রাঙ্গণে প্রচুর ময়লা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের বিষয়টিকে অত্যন্ত শক্ত ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মূলত এই বিশেষ বেকারিতে প্রতিদিন বিভিন্ন খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকে কারখানার ওভেনের কারণে কোনো বিষাক্ত বা ক্ষতিকারক গ্যাস বের হয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ তথ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সেখানকার কর্মরত দুইজন সিনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা হয়েছে। তারা হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা তদন্তের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অনিয়ম উদঘাটনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা আরও তিন জন বাড়ানো হয়েছে বলেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে জানান, আগামী ৩ জুনের মধ্যে এই তদন্ত কমিটির একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পেশ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।