দেশের উপকূলীয় তিন অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (৩১ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনস্থ বিশেষ ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার এক বিশেষ পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সচল ও নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্ক সংকেত মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বনিম্ন ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত সংঘটিত হতে পারে। এই আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার সমস্ত নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সমগ্র দেশের সম্ভাব্য সার্বিক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই একই সময়ে ভৌগোলিক ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি ও উপকূলীয় কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বর্ষণের স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের আট বিভাগেই কম-বেশি বৃষ্টিপাতের এই পূর্বাভাস থাকলেও, এই সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে বৃষ্টির কারণে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, দিনভর গুমোট ও ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি দেশের অনেক অঞ্চলেই বহাল থাকতে পারে।