ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

তিন পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র ভ্যানিটি ব্যাগে করেই নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা: মতিউর রহমান চৌধুরী


  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:১৪ পিএম

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিন পৃষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তিনি তার ভ্যানিটি ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দি পোস্ট’-এ প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে আনেন। মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনা সাংবিধানিক নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেই দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সশরীরে জমা দিয়ে যেতে পারেননি; বরং তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গেই নিয়ে যান।

পদত্যাগপত্রের ভেতরের বিষয়বস্তু ও নাটকীয়তা নিয়ে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনের মুখে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে ৩ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন স্টাফের সেটি অফিশিয়ালি টাইপ করার কথা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে তখন পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল যে, সেই চিঠিটি চূড়ান্তভাবে টাইপ করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। ফলে হস্তলিখিত বা খসড়া সেই ঐতিহাসিক কাগজটিই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগে থেকে যায়।

মতিউর রহমান চৌধুরী সাক্ষাৎকারে শেষ মুহূর্তের সেই টানটান উত্তেজনার বিবরণ দিয়ে জানান, ৪ আগস্ট রাতের পর ৫ আগস্ট দুপুরে চারদিক থেকে লাখ লাখ মানুষ যখন গণভবনের একদম কাছাকাছি চলে আসে, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ওয়াকিটকি থেকে বারবার বার্তা আসছিল। দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘আপনার হাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই, এখনই গণভবন ছাড়তে হবে।’ এমন চরম তাড়াহুড়োর মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ভ্যানিটি ব্যাগটি ভেতরের একটি চেয়ারের ওপরই ফেলে রেখে বাইরে চলে আসেন। পরবর্তীতে একদম শেষ মুহূর্তে যখন তিনি গাড়িতে উঠবেন, তখন পাশে থাকা সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার ব্যাগটা ভেতরে রয়ে গেছে, ওটা একটু নিয়ে আসো।’ এরপর সেই সেনা কর্মকর্তা ব্যাগটি এনে দিলে তিনি গাড়িতে ওঠেন এবং সেই ব্যাগের ভেতরেই ছিল বহুল আলোচিত সেই ৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর