চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) ১৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চীন সফরে গেছেন। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে চায়না এয়ারের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। চীন সরকার এবং বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, আগামী ৮ জুন পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। এতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা চীনের উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা, আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন খাতে উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) মহাপরিচালক জুলিয়া মঈন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (ইনোভেশন এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশন) মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, উপসচিব জেসমিন আখতার, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ মামুন শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহর একান্ত সচিব তারিখ হাসান, মোহাম্মদ আবদুল জাব্বার, মো. মাহবুবুর রহমান, আনোয়ার উল হালিম এবং মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরওয়ার।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে সোমবার (১ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি মনে করেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা চীনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে এই সফর ইতিবাচক অবদান রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি নয়, বরং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং আধুনিক প্রশাসনিক পদ্ধতি সম্পর্কে নতুন ধারণা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি করবে।