দেশে হামের প্রকোপ ও এর উপসর্গজনিত জটিলতায় মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে হাজারেরও বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় আরও ৪২ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ও নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ১৩৬ জনে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন রোগী। চিকিৎসা গ্রহণের পর এদের মধ্যে ৫৪ হাজার ৮১২ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় শিশুদের মধ্যে দ্রুত জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, টিকাদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করা গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় সেখানে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবার, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করেছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ অবহেলা করলে তা দ্রুত মহামারির আকার নিতে পারে।