রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় এবং মামলার রায় বা সময়সীমা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ (মঙ্গলবার) মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা থাকলেও ১১ জনের সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা। তবে রায় প্রদানসহ পরবর্তী সব সিদ্ধান্ত আদালতের।
তিনি আরও জানান, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর আসামিকে বক্তব্য পড়ে শোনানো, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং রায়ের জন্য দিন নির্ধারণসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সরকার চায় মামলার বিচার স্বল্প সময়ে শেষ হোক এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
মামলার আসামি সোহেল রানা আদালতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডে ‘ডলার’ নামের আরেকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ডলার নামে একজনের কথা আসছে, তবে সে এখনো গ্রেফতার হয়নি। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।” তিনি আরও বলেন, আদালতে কী বলা হয়েছে সে বিষয়েও তিনি অবগত নন এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলা নিয়ম অনুযায়ী সীমিত।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় চার আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের তথ্যও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
আদ দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ, গ্যাস লিকেজ বা এসি-সংক্রান্ত কারণসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পোস্টমর্টেম করা উচিত ছিল এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত করা যেতে পারে।
ঈদুল আজহায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ইতোমধ্যে সুফল দিচ্ছে এবং আগামী দিনে আরও উন্নতি দেখা যাবে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হঠাৎ করে বন্ধ করলে ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি হবে, তাই পুনর্বাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি, বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক, ‘পুশ-ইন’ ইস্যু, জঙ্গল সলিমপুর অভিযান, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন আনার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, পুরোনো জুয়া আইন যুগোপযোগী নয়, তাই অনলাইন জুয়া, মাদক ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে, যা আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হতে পারে।