ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

প্রতিষ্ঠানটির নাম পাল্টে মায়ের নামে করতে রাজি হলেন না প্রধানমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:৫৮ পিএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ২০০৬ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠায়। তবে মঙ্গলবার (২ জুন) প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে একটি নীতিগত নির্দেশনাও দিয়েছেন। তিনি মত দিয়েছেন, যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠান করতে হয়, তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে সেটির নামকরণ করা যেতে পারে। বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবের নোটে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে নতুন নামকরণের প্রয়োজন হলে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং নতুন অবকাঠামো ও নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নাম পরিবর্তনের যে প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত, প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান তার বিপরীতে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তারা বলছেন, এটি প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও প্রতিষ্ঠানিক পরিচয় সংরক্ষণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং গত সোমবার জানায়, মশা নিয়ন্ত্রণ বা নিধনের পদ্ধতি জানতে বিদেশ সফরের প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সমস্যার মধ্য থেকেই কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয়, প্রতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণের বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর