ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

স্বামী-সন্তান কানাডায়, মিরপুরের ফ্ল্যাটে মিলল নিঃসঙ্গ নারীর অর্ধগলিত মরদেহ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:২১ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি আবাসিক বাসা থেকে সেলিনা আফরোজ নামের পঞ্চান্ন বছর বয়সী এক মধ্যবয়সী নারীর নিঃসঙ্গ ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী অন্তত কয়েক দিন আগে নিজ ঘরের ভেতর মারা গেছেন এবং দীর্ঘ সময় কেউ জানতে না পারায় লাশটিতে পচন ধরেছে। পুলিশ ও পারিবারিক অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, মৃত ওই নারীর স্বামী ও দুই সন্তান সুদূর উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই বেদনাদায়ক ও চাঞ্চল্যকর বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ। তিনি জানান, বুধবার আমরা গোপন ও বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে পল্লবী থানার সেকশন বা শাখা ৬ এলাকার ১০ নম্বর রোডের সি ব্লকের ১৪ নম্বর বাসা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করি। উদ্ধারকালীন সময়ে তার মরদেহ অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত ও অর্ধ-গলিত অবস্থায় ঘরের ভেতর পড়ে ছিল। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে তার মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. হানিফ মামলার প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে আরও জানান, মৃত নারী সেলিনা আফরোজের স্বামী মমিনুল হক ও তার দুই সন্তান দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অর্থাৎ কানাডায় অবস্থান করছেন। তবে তাদের সঙ্গে পারিবারিক গভীর কলহ ও মানসিক দূরত্ব থাকায় বাবার পৈত্রিক ফ্ল্যাটে এসে সম্পূর্ণ একা একা থাকতেন মৃত সেলিনা আফরোজা। প্রায় দীর্ঘ ১২ বছর আগে তিনি কানাডা থেকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং পল্লবীর ওই বাসার একটি ফ্ল্যাটে একাকী জীবনযাপন করতেন। আত্মীয়-স্বজন ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওই বহুতল ভবনের একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন যাবত তিনি সম্পূর্ণ একাই থাকতেন, যেখানে তার দেখাশোনা করার মতো কোনো স্থায়ী মানুষ ছিল না। তবে ওই একই ভবনের চার তলায় তার আপন আরেক বোন সপরিবারে বসবাস করতেন। গত ২৬ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মৃত সেলিনা আফরোজের সঙ্গে তার আপন ভাতিজা আশফাকুর রহমানের সর্বশেষ মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে আর কোনো আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীর সঙ্গে তার কোনো ধরনের যোগাযোগ বা কথা হয়নি।

কানাডা প্রবাসী স্বামী ও সন্তানদের রেখে একাকী ফ্ল্যাটে মৃত্যুর এই করুণ ঘটনাটি রাজধানীর বুকে এক বিশাল শূন্যতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। ১২ বছর ধরে স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এই নারীর মৃত্যুর খবরও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ জানতে পারেনি, যা আধুনিক নগর জীবনের নিঃসঙ্গতাকে চরমভাবে প্রকাশ করে। ঘরের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে ভবনের বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশ এসে দরজা ভেঙে এই লাশ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, ঠিক একই রকম এক বেদনাদায়ক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্প্রতি এই পল্লবীরই ৬ নম্বর সেকশনের ১৩ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া আরেক নারীর গলিত লাশের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই ঘটনাতেও দেখা গিয়েছিল, মৃত ওই নারীর চার ছেলেমেয়ের মধ্যে একজন সরকারের উচ্চপদস্থ যুগ্মসচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের সম্মানিত শিক্ষক এবং একজন কানাডা প্রবাসী ছিলেন। আর অপর এক স্কুলশিক্ষক মেয়ের বাসায় থাকতেন সেই বৃদ্ধা মা। আধুনিক সমাজে উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত সন্তান থাকার পরও মা-বাবাদের এমন করুণ ও নিঃসঙ্গ পরিণতি দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের বিবেককে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে।

পল্লবী থানা পুলিশ এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরিষ্কার হবে বলে পরিদর্শক মো. হানিফ জানিয়েছেন। তবে প্রবাসে থাকা তার স্বামী মমিনুল হক ও সন্তানদের দেশে খবর পাঠানো হয়েছে কি না বা তারা লাশ গ্রহণ করতে আসবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। স্বজনদের অনুপস্থিতিতে ভাতিজা আশফাকুর রহমান ও চার তলায় থাকা বোনের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রাজধানীর বুকে একের পর এক এমন উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রবীণ ও নিঃসঙ্গ নারীদের গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনা সন্তান ও মা-বাবার মধ্যকার পারিবারিক বন্ধনকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যা সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চিন্তার বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর