বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে খুব শিগগিরই রোড শো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। তিনি জানান, চলতি মাসের মধ্যেই রোড শো’র প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কারখানার বর্তমান হালনাগাদ পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং সেগুলোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি অলাভজনক কারখানাগুলোকে লাভজনক করার কার্যকর কৌশল খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি অব্যবস্থাপনা দূর করে শিল্প খাতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং আধুনিকায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে থাকা সরকারি সম্পদগুলো পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, এই রোড শো'র মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশীয় শিল্প খাতের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরা সম্ভব হবে। কারখানাগুলো চালু হলে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে রপ্তানি বাণিজ্যেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।