রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গত ২৭ মে একই দিনে ৬ নবজাতকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ’ অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘনের দায়ে কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পত্র জারির পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে—অর্থাৎ আগামী ৭ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে—হাসপাতালটির মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে ১ জুন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকালে কমিটি হাসপাতালের পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধান, নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) কর্মরত চিকিৎসক, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত নার্স, আয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিচালনায় ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর বিধানগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই নিয়মের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সরাসরি দায়ী করেছে।
উল্লেখ্য, আদ্-দ্বীন হাসপাতালটি উক্ত অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায়, এই ধারার অধীনে কেন হাসপাতালটির নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক কারণ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বা লিখিতভাবে জানানোর জন্য আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
এর আগে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে ছাদে বেকারি থাকার বিষয়সহ নানা অনিয়ম দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া তদন্তে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে গুরুতর ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য উঠে আসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কঠোর পদক্ষেপ স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি হাসপাতালের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী জবাব দেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।
আকাশজমিন/ আরআর