ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া প্রাইম কোডের ওপরই পিচ ঢালাই

বাহুবলে কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে ভয়াবহ অনিয়ম


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৭:১৫ পিএম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদর থেকে বাহুবল-রাজাপুর বাজার পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বরাদ্দের একটি সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অত্যন্ত দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির চরম ঘাটতিতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। আজ রোববার (৭ জুন) দুপুর ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালার আগে নিয়ম অনুযায়ী যে প্রাইম কোড (যা স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’ নামে পরিচিত) দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা ৩-৪ দিন আগে প্রয়োগ করা হলেও এর মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টিতে সেটি সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে পিচ ঢালার মুহূর্তে রাস্তার ওপর প্রাইম কোডের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘নিফা ভুইয়া’ পুনরায় প্রাইম কোড না দিয়েই রাস্তার দীর্ঘ অংশজুড়ে পিচ ঢালাইয়ের মূল কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাইম কোড ছাড়া পিচ ঢাললে তা নিচের ইটের খোয়া বা মেকাডমের সাথে শক্তভাবে কামড়ে ধরে রাখতে পারে না। ফলে এই পিচ একেবারেই টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সামান্য পানির ছোঁয়ায় পিচ উঠে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। এতে পুরো সরকারি প্রকল্পই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগের পর নতুন সড়ক পেয়ে স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয় সাধারণ জনসাধারণের মাঝে। কিন্তু কাজ শুরুর এই প্রাথমিক ধাপেই এমন নজিরবিহীন অনিয়ম দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। যেকোনো সময় এই জনক্ষোভ বড় ধরনের সামাজিক বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা জুবাঈদ আহমদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে বারবার ঠিকাদারের লোকজনকে কাজ বন্ধ রেখে পুনরায় প্রাইম কোড দেওয়ার অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা কোনো নিয়মনীতি বা আমাদের কথার তোয়াক্কাই করছে না। এভাবে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে কাজ হলে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না। আরেক বাসিন্দা নুরুদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিটামিন ছাড়া পিচ দেওয়া হচ্ছে— এটা কাজ না করে সরকারি টাকা সরাসরি নষ্ট করার নামান্তর। এই দায়সারা কাজ করার চেয়ে রাস্তা না করাই ভালো ছিল। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাধনের কাছে অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনো মন্তব্য করতে সম্পূর্ণ রাজি হননি।

অপরদিকে, কাজের সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে পিচ ঢালাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটনাস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যা তদারকির চরম ঘাটতিকে আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে। তবে এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল অনৈতিক কাজের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, প্রাইম কোড দেওয়ার পর অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল বা ভারী বৃষ্টির কারণে তা উঠে গেলে পুনরায় নতুন করে প্রাইম কোড দেওয়ার সরকারি নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রাইম কোড দিয়ে পিচ করা উচিত ছিল। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ভোগান্তির পর পাওয়া এই সড়কটি যদি শুরুতেই দুর্নীতির শিকার হয়, তবে তা জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে। এবিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় কে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর