প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত করছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম বা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা না মেনে এভাবে পুশইন করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিমধ্যে ভারতকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি পাঠিয়েছি।’
অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘কোনো দেশে যদি অবৈধভাবে কেউ অবস্থান করেন, তবে তাকে ফেরত পাঠানোর একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আইনি প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়া মেনেই ভারতকে কাজ করতে হবে। এর বাইরে যেকোনো ধরনের একতরফা পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
ভারত থেকে পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর ঘটনা ঠেকাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ২৬টি জেলার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং চার শিফটে ২৪ ঘণ্টা তারা সতর্ক পাহারা দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় স্থানীয় জনসাধারণও বিজিবিকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহায়তা করছেন।
এদিকে, আজ সোমবার (৮ জুন) থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সম্মেলন। আগামী ১১ জুন পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এই সম্মেলনে অবৈধ পুশইন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রধান আলোচনার এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। বিজিবি কর্মকর্তারা ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে এসব বিষয়ে কড়া বার্তা পৌঁছে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সীমান্তের এই উত্তেজনা নিরসনে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে পুশইনের মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।