দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বড় বড় উন্নয়ন মেগা প্রকল্পগুলোর ভাগ্য নির্ধারণে রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুতে শুরু হয়েছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নীতি নির্ধারণী বৈঠক। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চলতি বছরের অন্যতম প্রধান ও বহুল প্রতীক্ষিত সভাটি আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সফলভাবে চলছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সভাকক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের একনেক সভাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও পদস্থ সচিবদের উপস্থিতিতে এই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি আজ সকালে গণমাধ্যমকে একনেক সভা শুরু হওয়ার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করতে আজকের এই একনেক সভায় বেশ কয়েকটি মেগা ও জনগুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য টেবিল উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা ও উন্নয়ন দর্শনের আলোকেই মূলত এই প্রকল্পগুলোর আর্থিক কাঠামো ও যৌক্তিকতা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের এই একনেক সভায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার মতো বড় বড় ব্যয়ের বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত বহু আলোচিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্পের মতো মেগা পরিকল্পনাগুলো আজকের সভার মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে চলমান এই সভায় প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলিত ব্যয়, বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং এর বিপরীতে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের জোগানের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছেন একনেক কমিটির সদস্যরা। পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় বা অপচয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন প্রকল্পগুলোকেই আজকের একনেক সভায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হবে, যা দেশের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।