সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক কৃষক দল নেতাকে থানার ভেতরে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। আহত ওই নেতার নাম ফারদিন হাসান উজ্জ্বল, যিনি ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা কৃষক দল ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করে জানান, সোমবার রাতে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের প্রতিবেশী আপন মাতুব্বরকে কোনো একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটকের খবর পেয়ে ওই রাতেই তার খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিতে ভাঙ্গা থানায় যান উজ্জ্বল। সেখানে কর্তব্যরত ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লা উজ্জ্বলের কাছে তার পরিচয় জানতে চান। উজ্জ্বল নিজের এবং আটকের পরিচয় দেওয়ার সাথে সাথেই এসআই কবির মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই তাকে থানার ভেতরেই বেদম মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ও দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে থানার ভেতরে এভাবে হেনস্তা ও মারধর করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত এসআই মো. কবির মোল্লার দ্রুত প্রত্যাহার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। উক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উকিল মাতুব্বর, উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মোল্লাসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী ফারদিন হাসান উজ্জ্বল বলেন, "আমি সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আমার প্রতিবেশীকে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার জন্য থানার ভেতরে গিয়েছিলাম। তখন এসআই মো. কবির মোল্লা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি কে?' আমি বিনয়ের সাথে বলি, যাকে ধরে এনেছেন সে আমার প্রতিবেশী ও ভাই হয়। এ কথা শোনার পরপরই তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এমন আচরণের বিচার চাই।"
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের সংগঠনের একজন সক্রিয় নেতাকে যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে তা নিন্দনীয়। তিনি তো কোনো অপরাধ করেননি, বরং মানবিক কারণে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। আমরা ইতিমধ্যেই ফরিদপুর জেলা কৃষক দলকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসআই কবির মোল্লার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।"
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লা মারধরের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "মারধরের অভিযোগটি সত্য নয়। মূলত গতকাল একটি ঘটনায় ফারদিন হাসান উজ্জ্বল থানায় এসেছিলেন। তখন তার সাথে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি বা কথা কাটাকাটি হয়েছিল মাত্র, তবে কোনো শারীরিক লাঞ্ছনা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।" ভাঙ্গা থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর