ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

অতিরিক্ত বন্দি নিয়ে হিমশিম কারাগার

সব মামলা মিলিয়ে দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ২৭০৭


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ সময় : ১১:১৯ এএম

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২৭৩ জন আসামি বর্তমানে বিভিন্ন কারাগারের কনডেমড সেলে বন্দি রয়েছেন। কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের মামলা মিলিয়ে বর্তমানে দেশের ৭৪টি কারাগারে মোট ২ হাজার ৭০৭ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। ৯ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার, যা দেশের ৪৬ হাজার বন্দি ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। ফাঁসির আসামিদের সামলানো চরম কঠিন উল্লেখ করে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা অনেক সময় বেপরোয়া আচরণ করেন। বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারে বন্দির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার অপরাধে দেশে ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জনের ফাঁসি হয়েছে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া ও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির দীর্ঘসূত্রতার কারণে বহু মামলার রায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০০৫ সালে সাভারে যৌতুকের দাবিতে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল ১৬ বছরের কিশোরী সামিনাকে। ঘটনার ১৩ বছর পর ২০১৮ সালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ সামিনার স্বামী জাফরসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর ৮ বছর পার হয়ে গেলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ না হওয়ায় এখনো ফাঁসি কার্যকর হয়নি। সামিনার মা নাজমা বেগম আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ বিচারহীনতার পাশাপাশি আসামিপক্ষের স্বজনদের হুমকির মুখে তাঁদের দিন কাটাতে হচ্ছে। একইভাবে ২০১২ সালে রাজধানীর হাতিরপুলে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর ২৬ টুকরা করার মামলায় ২০১৭ সালে আসামি সাইদুজ্জামান বাচ্চুর ফাঁসির আদেশ হলেও, রায় ঘোষণার আগেই সে জামিন নিয়ে পলাতক হয়ে যায়।

এই দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বর্তমান সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর কেটে টুকরা টুকরা করার মামলায় রেকর্ড ১৯ দিনে রায় দিয়ে ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলার নথিপত্র দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মাগুরার আরেকটি আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গত বছর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। উচ্চ আদালতে এসব মামলার জট কমাতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের ব্রিফিং অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের রায় কার্যকরে যেন বিলম্ব না হয়, সেজন্য তিনি উন্মুক্ত আদালতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে প্রথম বিশেষ অধ্যাদেশের পর ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০, ২০২৫ এবং সর্বশেষ সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমানে এটি 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬' নামে কার্যকর রয়েছে। এই নতুন আইনে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড করা হয়েছে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে তদন্ত ১৫ দিনে ও বিচার ৯০ দিনে সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, উচ্চ আদালতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে ফাঁসির আসামিদের ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তি করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর