ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব

ইউনেস্কো পুরস্কার পেল চলনবিলের ‘ভাসমান বিদ্যালয়’


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ সময় : ৭:৫০ পিএম

বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি অঞ্চল চলনবিলের দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার অনন্য উদ্যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে। চলনবিলে পরিচালিত সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ব্যতিক্রমী ‘ভাসমান বিদ্যালয়’ প্রকল্পটি অর্জন করেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫’। বুধবার (১০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গৌরবময় তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইউনেস্কো ঢাকা অফিস আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জমকালো এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবব্রত চক্রবর্তী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. সুসান ভাইজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের চমৎকার কার্যক্রম শিক্ষায় সবার অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে অভূতপূর্ব সহায়তা করে।

বাংলাদেশের চলনবিল অঞ্চলে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবঞ্চিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোর ও তরুণদের কাছে নিয়মিত শিক্ষা পৌঁছে দিচ্ছে। সম্পূর্ণ স্থানীয় নৌকা নির্মাণ প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি করা এসব নৌকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এই সংস্থাটি চলনবিলে মোট ৫৬টি নৌকার সমন্বয়ে একটি বিশাল ভাসমান নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে দিনরাত প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সেবা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কার্যক্রমেও বেশ কয়েকটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নৌকা ব্যবহৃত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় মানুষের আদি জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করে এমন টেকসই সমাধান গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রান্তিক মানুষের কাছে আলোর বার্তা নিয়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করে আসছে। চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রবর্তিত ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি বছর সারা বিশ্বের মাত্র তিনটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগকে এই বিরল সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ফ্রেন্ডশিপ ২০২৩ সালে এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৩ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছিল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর