বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর অবশেষে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার লাভ রোড সংলগ্ন মূল সড়ক ছেড়েছেন নাসা গ্রুপের পোশাক কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যান। আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা রাস্তা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সড়কটিতে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
শিল্পাঞ্চল থানা–পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে নাসা গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তাদের বকেয়া বেতনের দাবিতে হঠাৎ করেই লাভ রোড সংলগ্ন প্রধান সড়কে নেমে আসেন। এরপর তারা সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের এই আকস্মিক সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের ব্যস্ত সময়ে মূল সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার তীব্র প্রভাব পড়ে আশপাশের অন্যান্য সংযোগ সড়কেও। মুহূর্তের মধ্যে হাতিরঝিল, মহাখালী এবং কাওরান বাজারগামী সড়কগুলোতে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধের কারণে মূল সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে নাসা গ্রুপের পোশাক কারখানার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক এই সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে এবং তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মালিকপক্ষের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেওয়া হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যেতে সম্মত হন। ওসি মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, "শ্রমিকদের বুঝিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়ক থেকে সফলভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরই সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।"
কারখানার আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তাদের বেতন বকেয়া থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। ঘর ভাড়া, দোকান বাকি ও দৈনন্দিন খরচের টাকা না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা না হলে তারা আবারও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা ও তার আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।