প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাজেটের দর্শন ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, সেই বাজেটকে কিছু মানুষ ‘চানাচুর’ বা ‘গণবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। যারা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এই উদ্যোগকে চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করছে, তারা মূলত সাধারণ মানুষের উন্নতি সহ্য করতে পারছে না।”
নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রচারণার সময় সিলেটের মাটি থেকে তিনি যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। হবিগঞ্জে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি আনন্দিত। এটি বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী কাজের একটি বড় নজির।
তারেক রহমান আরও বলেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, কেবল পুরুষদের দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে না পারলে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অধরাই থেকে যাবে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কর্মসূচি শুরু করেছে, যা সরকারের আন্তরিকতারই প্রতিফলন।
বাজেটের সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিনের পত্রিকাগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সরকার কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। যে বাজেট সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য করা হয়েছে, কিছু মানুষ কেন সেই বাজেট নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছে তা বোধগম্য নয়। বাজেটকে ‘চানাচুর’ বলে অভিহিত করার মাধ্যমে তারা মূলত খেটে খাওয়া মানুষের অধিকারকে খাটো করার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাসী এই সরকার জনগণের সব প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। উন্নয়নের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের সব অপপ্রচার উপেক্ষা করে সরকার তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি চা শ্রমিকসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের সুখে-দুঃখে বিএনপি সরকার সর্বদা পাশে থাকবে এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আকাশজমিন / আরআর