আজ ২০ জুন, বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, সংঘাত ও নির্মম নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অত্যন্ত বেদনাবিধুর পরিবেশে দিবসটি পালন করছেন বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী জনপদ হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত এসব মানুষের জীবন এখনও চরম অনিশ্চয়তা, দৈনন্দিন সীমাবদ্ধতা এবং মিয়ানমারে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের অন্তহীন অপেক্ষার বেড়াজালে আটকে আছে। বিগত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী ইতিহাসের বর্বরতম অভিযান শুরু করলে প্রায় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে এসে আশ্রয় নেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৭ হাজারে। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড় কাটা ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে অত্যন্ত মানবেতরভাবে বসবাস করছেন প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থানান্তরিত অবস্থায় রয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।
ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গা নাগরিক ও নেতারা স্পষ্ট বলছেন, দিন যত যাচ্ছে, তাঁদের বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট তত প্রকট আকার ধারণ করছে। তাঁরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের পিতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এর মাঝি তথা রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবস যখনই ফিরে আসে, তখনই আমাদের জীবনের অবর্ণনীয় কষ্টগুলো বিশ্বমঞ্চে নতুন করে সামনে আসে। প্রায় ৯ বছর ধরে আমরা বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রিত ও পরাধীন জীবন কাটাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর মানবিক সহায়তায় আমরা কোনোমতে বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু এটি আমাদের জীবনের স্থায়ী কোনো সমাধান হতে পারে না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ, আমাদের হৃত নাগরিকত্বের অধিকার এবং সম্মানের সঙ্গে দ্রুত ফিরে যেতে চাই।’ একইভাবে আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচআর) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জুবাইর এই শরণার্থী দিবসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্যাম্পের এই সংকীর্ণ ঘেরাটোপে আমাদের সন্তানরা দিন দিন বড় হচ্ছে, কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন। এখানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। নতুন প্রজন্মে জন্ম নেওয়া আমাদের সন্তানদের অনেকেই নিজেদের চোখ দিয়ে মিয়ানমার দেশটিকে কখনও দেখেনি। আমরা চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকটের এই স্থায়ী সমাধানে আরও জোরালো ও কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা নিক, যাতে আমরা দ্রুত নিজ দেশে ফিরে গিয়ে একটি স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারি।’
ভৌগোলিক দিক থেকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং-বালুখালী মেগা ক্যাম্পকে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী বসতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাত্র কয়েক বর্গকিলোমিটারের এক সংকীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় লাখ লাখ মানুষের গাদাগাদি বসবাস। বাঁশ, ত্রিপল ও টিনের তৈরি এখানকার অস্থায়ী ঘরগুলো বর্ষা, ঘূর্ণিঝড়, মারাত্মক পাহাড়ধস এবং আকস্মিক ভয়াবহ অগ্নিকারের ঝুঁকিতে সবসময় নিমজ্জিত থাকে। ক্যাম্পগুলোতে নিরাপদ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংস্থা নিরলস কাজ করে গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় ও জনসংখ্যার বিশাল আধিক্যের কারণে সুযোগ-সুবিধা এখনও অত্যন্ত সীমিত। রোহিঙ্গাদের একটি বিশাল অংশের দিন কাটে আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সেবা ও মানবিক ত্রাণের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে। ক্যাম্পের বাইরে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে অবাধে কাজ করার বা উপার্জনের কোনো আইনি সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ রোহিঙ্গা পরিবার সম্পূর্ণ আয়বিহীন অবস্থায় অলস ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জীবনযাপন করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের একদম শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত আর্থিক সহায়তা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় এই তহবিলের অর্থায়ন মারাত্মকভাবে কমতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ এবং তার সহযোগী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণে যৌথভাবে ৭১০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল তহবিল চেয়ে বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন করেছে। তবে বৈশ্বিক মন্দার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থায়ন বা ফান্ড সংগ্রহ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সহায়তা দ্রুত কমে যাওয়ায় ক্যাম্পের ভেতরে শিশুদের শিক্ষা, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি এবং সামগ্রিক সুরক্ষা কার্যক্রমে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে যে, অর্থের এই সংকট যদি একইভাবে অব্যাহত থাকে, তবে রোহিঙ্গা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
বর্তমানে এই বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু। ক্যাম্পে দীর্ঘ ৯ বছরে জন্ম নেওয়া হাজার হাজার শিশু এখনও পর্যন্ত নিজেদের স্বাধীন চোখের সামনে মিয়ানমার দেশকে দেখার সুযোগ পায়নি। তাদের আন্তর্জাতিক পরিচয় এখন শুধুই ‘শরণার্থী’। সীমিত শিক্ষার সুযোগ এবং কর্মমুখী প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অভাবে একটি পুরো নতুন প্রজন্ম সম্পূর্ণ অন্ধকার ভবিষ্যৎ ও চরম উদ্বেগের মধ্যে বেড়ে উঠছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে তীব্র হতাশা বাড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও আন্তর্জাতিক মানবপাচারের ঝুঁকিও জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যাম্পের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সরকার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিশেষ এপিবিএন পুলিশ মোতায়েন করলেও নানা ধরনের অপরাধের বিস্তার এখনও স্থানীয় ও জাতীয় উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতে ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধ মাদকপাচার, মানবপাচার, অভ্যন্তরীণ চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী উপদলের সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা মাঝেমধ্যে সংবাদ শিরোনামে সামনে আসে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানহীন ও অনিশ্চিত পরিবেশে বসবাস মানুষের মধ্যে মারাত্মক হতাশা তৈরি করছে, যা অপরাধচক্রের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীরা উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অনেক রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্ররোচিত করছে।
মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর শত শত রোহিঙ্গা দালালদের খপ্পরে পড়ে সাগরপথে ট্রলারে করে আত্মঘাতী যাত্রা করছে। জাতিসংঘের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ২০২৫ সালে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গাদের এই অবৈধ সমুদ্রযাত্রা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ। যেখানে সাগরডুবিতে প্রায় ৯০০ জন রোহিঙ্গা নিহত বা নিখোঁজ হওয়ার আন্তর্জাতিক তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি ২০২৬ সালেও এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ যাত্রা একইভাবে অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ক্যাম্পে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও অন্ধকার ভবিষ্যৎহীনতাই এই অসহায় মানুষকে নিজের জীবন বাজি রেখে সমুদ্রের এই চরম ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে। এর পাশাপাশি প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও তীব্র ঝড়ের শঙ্কা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে ঘনবসতি ও তীব্র বাতাসের কারণে অগ্নিকাণ্ডও ক্যাম্পের অন্যতম বড় ঝুঁকি। চলতি বছরের শুরুতেই কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাগা ভয়াবহ আগুনে শত শত অস্থায়ী ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ছাই হয়ে পুড়ে যায় এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এবং শুকনা বাঁশ-ত্রিপলের ঘর এই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এতসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্বাস্থ্য খাতে কিছু ইতিবাচক ও আধুনিক পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি কুতুপালং ক্যাম্পে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের এক আধুনিক মাতৃসেবা হাসপাতাল চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রসূতি মায়েদের জন্য ২৪ ঘণ্টা জরুরি সিজারিয়ান ও প্রসবকালীন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এটি ক্যাম্পের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশাল এই ১২ লাখ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বর্তমান চিকিৎসা সুবিধা এখনও অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং বৈশ্বিক অর্থায়ন সংকট অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আগামীতে আরও কঠিন হতে পারে। তবে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র শেষ প্রত্যাশা হলো নিজেদের সম্মান নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইনে বর্তমান অভ্যন্তরীণ সামরিক সংঘাত, নাগরিকত্ব দেওয়ার আইনি সংকট এবং তীব্র নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি কার্যত সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে থমকে আছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পরিষ্কার বলছে, মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ এখনও দেশটির জান্তা সরকার সৃষ্টি করেনি। বাংলাদেশ সরকার বারবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও দ্রুত সমাধানে বিশ্বনেতারা কার্যকর ভূমিকা নেন। কারণ প্রায় এক দশক ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বোঝা ও পরিবেশগত ক্ষতি বহন করা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সম্পূর্ণ মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এ সংকটের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো রাজনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া একা বাংলাদেশের পক্ষে এই বিশাল বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব।’ পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর চিত্র একদিকে যেমন বাংলাদেশের বৈশ্বিক মানবিক সহমর্মিতার, অন্যদিকে তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তার এক জীবন্ত প্রতীক।