বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ তরুণ নেতৃত্বের স্বীকৃতি ‘ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর বিচারক প্যানেলের ‘লিড জাজ’ বা প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা ফায়েজ বেলাল। আন্তর্জাতিক এই সম্মানজনক প্ল্যাটফর্মে তার এমন শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের জন্য এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রয়াত ব্রিটিশ রাজকুমারী প্রিন্সেস ডায়ানার স্মরণে প্রতিষ্ঠিত এই অ্যাওয়ার্ডটি ২৫ বছরের কম বয়সী তরুণদের জন্য বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে অনন্য ভূমিকা রাখা তরুণদের প্রতি বছর এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। প্রিন্সেস ডায়ানার দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি এই রাজকীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।
চলতি বছরের ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রক্রিয়া গত ৩১ অক্টোবর শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বিশ্বমঞ্চের এই তালিকায় এবার কোনো বাংলাদেশি তরুণ স্থান পান কি না, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পাওয়া ফায়েজ বেলাল নিজে ২০২২ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি প্রথমবার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ধারাবাহিকতায় এ বছর তাকে বিচারক প্যানেলের লিড জাজ বা প্রধান বিচারকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফায়েজ বেলাল মূলত 'বাংলাদেশ ইয়ুথ সোসাইটি (বিওয়াইএস)'-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং 'বিওয়াইএস ভেঞ্চারস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এর পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা ইউএনওডিসির (UNODC) গ্লোবাল ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাত্র ২৫ জন নির্বাচিত তরুণ প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
২০১৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে মাত্র কয়েকজন তরুণকে সাথে নিয়ে বিওয়াইএস প্রতিষ্ঠা করেন ফায়েজ। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার তরুণ সদস্য নিয়ে এই সংগঠনটি যুব উন্নয়ন, সামাজিক উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে কাজ করছে। বরিশাল থেকে পথচলা শুরু হলেও ফায়েজের দূরদর্শী নেতৃত্বে সংগঠনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এবার বৈশ্বিক পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বিওয়াইএস গ্লোবাল নেটওয়ার্ক’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মানসম্মত শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু কার্যক্রম এবং শান্তি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছেন ফায়েজ ও তার সংগঠন। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। বিওয়াইএসের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অভয়’, ‘গার্লস সামিট’, ‘স্বপ্নজয়’, ‘সম্পর্কে ভালো থাকুক দেশ’, ‘শি ইজ দ্য ফার্স্ট’, ‘আমি থেকে আমরা’ ও ‘ইয়ুথ ফেস্ট’সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রকল্পে গত ১২ বছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাতটির বেশি সামাজিক ব্যবসা (Social Business) পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিজের এই গৌরবময় যাত্রা সম্পর্কে ফায়েজ বেলাল বলেন, “বরিশাল থেকে শুরু হওয়া আমার যাত্রা আজ বৈশ্বিক একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি এটিকে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশের তরুণদের সক্ষমতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখি।”
তিনি আরও বলেন, “ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেখেছি, বয়স নয়—পরিবর্তন আনার উদ্ভাবনী ধারণা ও তা বাস্তবায়নের সক্ষমতাই নেতৃত্বের মূল পরিচয়। বাংলাদেশের তরুণরা ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আগামী দিনে সেই অবদান আরও বিস্তৃত ও প্রভাবশালী হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
উল্লেখ্য, গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড বিশ্বজুড়ে তরুণদের সামাজিক উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। প্রিন্সেস ডায়ানার গভীর বিশ্বাস ছিল— তরুণদের হাতেই রয়েছে পৃথিবী বদলে দেওয়ার আসল শক্তি।