যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরেছে। দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে গত সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তাঁর মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল।
বিমানবন্দরের সব ধরনের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে লিমনের মরদেহ তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এই সময় আবেগঘন পরিবেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে সরকার অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং লিমনের পরিবারের সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে মাগরিবের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। অন্যদিকে, লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম জানাজা আগামী ৬ মে দুপুর ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মিয়ামি কনস্যুলেটের মাধ্যমে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।
লিমনের পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে এখন শুধুই শোকের ছায়া। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন এবং তাঁর সহপাঠী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে হঠাৎ নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। এর কিছুদিন পর ফ্লোরিডার আই-২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে বৃষ্টির মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এমন করুণ পরিণতি দেশের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।