চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সফল সম্মেলন শেষে এখন দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘দ্য গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো মেগা বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
এর আগে, দালিয়ানের কর্মসূচি সমাপ্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুলেট ট্রেনে চড়ে বেইজিংয়ে এসে পৌঁছান। বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর প্ল্যাটফর্মেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিং প্রশাসনের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে তাঁকে রাজকীয় লালগালিচা সংবর্ধনা প্রদানের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এই রাষ্ট্রীয় সফরকে কেন্দ্র করে আজ বেইজিংয়ে দিনভর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি আজ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এর বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি।
উভয় দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর মধ্যকার এই আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের নতুন অর্থায়নের বিষয়টিও চুক্তিতে স্থান পেতে পারে। চীনা প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আজ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আলাদা আলাদা বৈঠক ও কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে।
বেইজিং সফর শেষে আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা এই সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বৈঠক ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে বেইজিং ছাড়বেন সরকারপ্রধান। এর আগে, গতকাল বুধবার দিনভর দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যার সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পন্ন করেন তারেক রহমান।