স্টাফ রিপোর্টার
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের উদ্যোগে রাজধানীর বনানীতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংস কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় টাস্কফোর্সের সভাপতি মীর শাহে আলম এমপি। অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে পূর্বে সতর্ক করার পরও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এই অপরাধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় ভবন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো নয়; আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এই সামাজিক যুদ্ধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি। পরিবার ও সন্তানদের সুরক্ষার স্বার্থেই প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী নগরবাসীর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা, পুরোনো টায়ার কিংবা যেকোনো পাত্রে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে। প্রতি তিন দিন পর পর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করা যাবে। নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এসব ট্যাবলেট সংগ্রহ করে জমে থাকা পানিতে ব্যবহার করার অনুরোধ জানান তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে আরও সক্রিয় প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে নির্মাণাধীন ও আবাসিক ভবনগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করেন। সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন বাসাবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ও রেস্টুরেন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টানা তিন দিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। এটি নাগরিক সচেতনতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাইকিং, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাঁদের নিরলস অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। অভিযানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছা, বনানী সোসাইটির সহ-সভাপতি ড. তানভীর আহমেদ খান, সাধারণ সম্পাদক ইরফান ইসলাম, জয়েন্ট ট্রেজারার ডা. শাহেদ হায়দার চৌধুরী, ম্যানেজার সৈয়দ মোস্তাক উদ্দীন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর