ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬ সময় : ১০:১৫ এএম

সুদূর দূরপ্রাচ্যের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়া ও চীনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে অবশেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ বাণিজ্যিক বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করে। এর আগে বাংলাদেশ সময় ঠিক বিকেল ৩টায় চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় এই বিশেষ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে সফরনামায় যুক্ত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী দেশের অন্যতম বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমানসহ বর্তমান সরকারের সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, সচিব এবং উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক আমলারা। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিশেষ কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও সাধারণ জনগণের অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রাফিক জ্যাম বা জনভোগান্তি এড়ানোর কঠোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা সফর এবং দেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক শোডাউন, ব্যানার-ফেস্টুনের আধিক্য, মোটরসাইকেল বহর কিংবা গণ-র‌্যালি না করার জন্য দলীয় ও সরকারিভাবে পূর্বেই কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে, কোনো ধরনের কৃত্রিম আড়ম্বর ছাড়াই অত্যন্ত ছিমছাম, মার্জিত, সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিক আবহেই দেশের প্রিয় সরকারপ্রধানকে বরণ করে নেন উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ শতকের এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই চীন সফরকালে দেশটির গ্লোবাল লিডার তথা মহামান্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রুদ্ধদ্বার এবং প্রতিনিধি পর্যায়ের এই অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, টেকসই বড় বড় বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিবিড় এবং সুদূরপ্রসারী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক বৈঠকের সফল সমাপ্তি শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দুটি অত্যন্ত বড় ও আনুষ্ঠানিক মেগা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সামাজিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি ও সমুদ্র অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বমোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্বিপাক্ষিক সম্মতির ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অন্যদিকে, বেইজিংয়ে পা রাখার ঠিক পূর্বেই এশিয়ার অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার মালয়েশিয়া সফরকালেও দেশটির শীর্ষ সরকারি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত সেই দ্বিপাক্ষিক সফল সফরেও দুই দেশের মধ্যকার চলমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বেশি দৃঢ় ও গতিশীল করতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পেশাগত অধিকার ও বাজার সুরক্ষায় ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি এবং ১টি বিশেষ সমঝোতা স্মারক সর্বসম্মতিক্রমে স্বাক্ষরিত হয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই জোড়া দূরপ্রাচ্য সফর সমসাময়িক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করতে এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ঢাকার কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদী এক অনন্য ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সাথে এই সফরের মাধ্যমে এশিয়ার বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক বৈদেশিক সম্পর্কের এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হলো।


এ সম্পর্কিত আরো খবর