স্টাফ রিপোর্টার:
শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এর জিয়া উদ্যান মাজার কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে আকস্মিকভাবে তিনি জিয়া উদ্যানের মাজার কমপ্লেক্সে যান এবং সেখানে পৌঁছে প্রথমেই পিতা ও মাতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জিয়ারতকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে পবিত্র ফাতিহা পাঠ করেন। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরবে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় পরিবেশ ছিল শান্ত ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূর্ণ। জিয়ারত শেষে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে সমাধিস্থলের পাশে অবস্থান করেন এবং অতীত স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা সবাই জিয়ারত কর্মসূচির সময় উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী বেলা এগারোটা পঞ্চাশ মিনিটের পর থেকেই জিয়া উদ্যান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়। জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধীরে ধীরে স্থান ত্যাগ করেন এবং পূর্বনির্ধারিত অন্যান্য কর্মসূচির দিকে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের মাজার কমপ্লেক্সে গিয়ে পিতা ও মাতার কবর জিয়ারত করেন। তার এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে জিয়ারত শেষে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেননি এবং নীরবেই স্থান ত্যাগ করেন।
এই জিয়ারত কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় শ্রদ্ধা নিবেদনমূলক, যেখানে পারিবারিক স্মৃতি ও আবেগের প্রতিফলন দেখা যায়। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও এমন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।