ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স স্থগিত স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:০০ পিএম

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়নে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। অতি সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অক্সিজেনের তীব্র সংকট এবং চিকিৎসকদের চরম গাফিলতির কারণে ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তটি হাসপাতাল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে এই তথ্য স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেই করুণ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে বলেন, “অক্সিজেনের অভাবে যখন ছয়টি শিশু বাঁচার আকুতিতে ছটফট করছিল, তখন সেখানে ন্যূনতম জরুরি অক্সিজেন সরবরাহ ছিল না। কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি এবং জানালা-দরজা সবকিছু বন্ধ থাকায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষাক্ত প্রভাবে বাচ্চাগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অথচ সেই ক্রান্তিলগ্নে ১৬ থেকে ১৭ জন মা যখন কান্নায় ভেঙে পড়ে ছোটাছুটি করছিলেন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো একজন কর্তব্যরত চিকিৎসকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।”

বিরোধী দলের সদস্যদের পূর্ববর্তী বিভিন্ন দুর্ঘটনার উদাহরণের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল কিংবা বার্ন ইউনিটে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডগুলো ছিল মূলত আকস্মিক দুর্ঘটনা। কিন্তু আদ্-দ্বীন হাসপাতালের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষমার অযোগ্য অবহেলার একটি বাস্তব উদাহরণ। তিনি দাবি করেন, এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পরও হাসপাতালের মালিক পক্ষ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি। তবে তিনি নিজে ঘটনার পরদিনই সেখানে গিয়ে চিকিৎসকদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তাঁরাও নিজেদের কর্তব্যে চরম অবহেলার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন। লাইসেন্স স্থগিতের সময়োপযোগী ব্যাখ্যার বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “অনেকেই যুক্তি দেখাচ্ছেন যে সেখানে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় রোগীদের কিডনি ডায়ালাইসিস করা হতো। এই সাশ্রয়ী মূল্যের তথ্যটি সত্য হলেও, মাথাব্যথা হলে যেমন মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়, তেমনি যারা এত বড় অপরাধ করেছে তাদের অবশ্যই কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আমরা কেবল সাময়িকভাবে লাইসেন্স স্থগিত করেছি, পুরো হাসপাতাল চিরতরে বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।”

একই সাথে হাসপাতালের ত্রুটিপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অনুমোদিত ভবনের একটি বড় অংশে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক বেকারি পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য স্তূপ আকারে জমে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মালিকের একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদে অনৈতিক পরিবর্তন এনে তাঁর নিজ স্ত্রীকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও করা হয়েছে। দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না জানিয়ে মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সবার আগে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ এবং দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে শিশুদের এমন বিনা চিকিৎসায় অকাল মৃত্যু আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না।”

পরিশেষে প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি গুণগত দিক থেকেও অত্যন্ত জনকল্যাণমুখী। সাধারণ মানুষের পকেটের নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় বা আউট অব পকেট এক্সপেন্স কমাতে ক্যানসার ও ডায়ালাইসিসের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবান্ধব ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ বা ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিজেদের আঙিনায় একটি করে গাছ লাগিয়ে ভবিষ্যৎ পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর