নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে বাংলাদেশিরা পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি অন্যান্য কিছু দেশের ভিসা প্রসেসিং নিয়েও আগের জটিলতা কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে ২৫ জুন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করছেন, নতুন হাইকমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এ ধরনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া মানেই সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া নয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা মূলত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যা আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। তার মতে, এটি বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত না হলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস মনে করেন, ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, যা আস্থা ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তার মতে, মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হলে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হয়।
তবে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো সীমান্তে পুশইন ইস্যু, গঙ্গা ও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব। বিশেষ করে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে যাচ্ছে, যা দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় পুশইন ঘটনা এবং দুই দেশের রাজনৈতিক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য সম্পর্ককে কিছুটা অস্বস্তিকর করে তুলেছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক টেকসই করতে হলে জনগণকেন্দ্রিক যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। ভিসা সহজীকরণ সেই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে কাজ করবে বলে তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়াকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও সামনের পথ এখনো পুরোপুরি চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়।