দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১ জন শিশু। আজ রোববার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৪৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩টি শিশু। অর্থাৎ, গত সাড়ে তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৭৩৮টি শিশু মারা গেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং যথাসময়ে টিকাদান সম্পন্ন না করার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে।
প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ল্যাব-নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০৬টি শিশু। অন্যদিকে, হামের উপসর্গজনিত নতুন রোগীর সংখ্যা ৯২৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৮ জন শিশু। বিপরীতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৯০৪ জন।
অধিদপ্তরের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৬৩২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে মোট ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন রোগীকে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সফল চিকিৎসার পর এদের মধ্যে ৮৫ হাজার ১২২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে এখনও বিপুল সংখ্যক শিশু দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত বায়ুর মাধ্যমে বা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিস্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সকল অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা যথাসময়ে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে বা আলাদা রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে অন্য শিশুরা সংক্রমিত না হয়। দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।