ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংক্রমণ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:৫৭ পিএম

সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ও এর তীব্র উপসর্গ দিন দিন আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১০৬ জন শিশু হাম ও এর বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৬৪৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর বাইরে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৯৩ জন শিশু মারা গেছে। সব মিলিয়ে গত সাড়ে তিন মাসে হাম এবং এর মারাত্মক উপসর্গজনিত কারণে দেশে মোট ৭৪১ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৯ জন শিশুর শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে আরও ৯৪৭ জন শিশুর শরীরে রোগটির স্পষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে আজ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১২ হাজার ৭৯১ জনকে।

সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালে মোট ৮৯ হাজার ৭৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ফলে আক্রান্তদের মধ্যে ৮৬ হাজার ৬২ জন শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। চিকিৎসকেরা শিশুদের শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই কোনো ধরনের অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর