নিজস্ব প্রতিবেদক: নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর সরকারি দপ্তরে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক নানা বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজস্ব দপ্তরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মধ্যকার এই বিশেষ বৈঠক নিয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই পোস্টে জানানো হয়েছে যে, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও ফলপ্রসূ মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশই আগামী দিনগুলোতে তাদের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের এই আকস্মিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য জানতে চাইলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর অত্যন্ত সফল, ফলপ্রসূ এবং যুগান্তকারী হওয়ায় মূলত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক ও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্বশরীরে এই সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জ্বালানি খাত এবং ভূ-রাজনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। চীন এই সফরকে তাদের দক্ষিণ এশীয় কূটনৈতিক কৌশলের একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সফরের পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের এই গভীর মৈত্রী আগামী দিনে এশীয় অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দুই নেতাই একমত পোষণ করেন। পরিশেষে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক মেগা প্রজেক্ট ও বিনিয়োগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।